৮ম শ্রেণী বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় অনুধাবন মূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 ৩য় অধ্যায় ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। ফুলের সুবাস বাতাসে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে?

উত্তর: ফুলের সুবাস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। যে প্রক্রিয়ায় একই তাপমাত্রা ও বায়ুমন্ডলীয় চাপে বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানের অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলে। ফুলের নিকটবর্তী স্থানে সুবাসে অণুগুলো অধিক ঘনত্ব সম্পন্ন হওয়ায় ব্যাপন প্রক্রিয়ায় আশেপাশের কম ঘনত্বের স্থানের দিকে ধাবিত হয়। এর ফলে ফুলের সুবাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রশ্ন ২। অভিস্রবণের জন্য অর্ধভেদ্য পর্দা দরকার হয় কেন?

উত্তর: অভিস্রবণের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট দ্রবণ প্রয়োজন হয়। এ দুই ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক করতে হয়। অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্যদিয়ে শুধুমাত্র দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে কিন্তু দাব্য অণু চলাচল করতে পারে না। এর ফলেই দ্রাবক অণু অল্প ঘনত্বের দ্রবণ হতে ঘন দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয়। অর্ধভেদ্য পর্দা না থাকলে ঘন দ্রবণের দ্রাব্য অণু হালকা ঘনত্বের দ্রবণে চলে আসত।

প্রশ্ন ৩। চিনির শরবতকে দ্রবণ বলা হয় কেন?

উত্তর: দ্ররণ বলতে দ্রব ও দ্রাবকের মিশ্রণকে বোঝায়। দ্রব পদার্থ চিনি দ্রাবক অর্থাৎ পানিতে মিশ্রণের ফলে দ্রবণ অর্থাৎ চিনির শরবত তৈরি হয়। এজন্য চিনির শরবতকে দ্রবণ বলা হয়।

প্রশ্ন ৪। খাদ্য পরিবহনে জাইলেম ও ফ্লোয়েম গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর: উদ্ভিদদেহে মূল দ্বারা শোষিত পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ জাইলেমের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। আবার ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদ দেহের শাখা-প্রশাখায় পরিবহন করে। ফলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ৫। শুকনো কাঠ পানিগ্রাহী ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: কাঠ সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। আর সেলুলোজ হচ্ছে কলয়েডধর্মী পদার্থ। অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। আর শুকনো কাঠে পানির ঘাটতি থাকায় এবং তাদের কলয়েডধর্মী গুণের কারণে ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। অর্থাৎ শুকনো কাঠ পানিগ্রাহী।

প্রশ্ন ৬। ইমবাইবিশন বলতে কী বুঝায়?

উত্তর: কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে। স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন, উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষপ্রাচীর ইত্যাদি কলয়েড জাতীয় পদার্থ। এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্য পানি শোষণ করে স্ফীত হয়। শুকনো বীজ অঙ্কুরোদগমের সময় ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি শোষণ করে।

প্রশ্ন ৭। প্রস্বেদন দিনের বেলায় হয় কেন?

উত্তর: প্রস্বেদন দিনের বেলায় হয়। কারণ দিনের বেলা প্রখর সূর্যালোক স্বাভাবিকভাবেই বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং যার ফলে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা হ্রাস পায়। দিনের আলোতে পত্ররন্দ্র খোলা থাকে এবং আলোর অনুপস্থিতিতে পত্ররন্ত বন্ধ হয়ে যায়। আর পত্ররন্দ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার উপরই বেশিরভাগ প্রস্বেদন নির্ভরশীল। এ সমস্ত কারণেই প্রস্বেদন দিনের বেলায় হয়ে থাকে।

প্রশ্ন ৮। কিউটিকুলার প্রস্বেদন কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: কচি কান্ড ও পাতায় কিউটিন আস্তরণ থাকে। কিউটিন যুক্ত এ আস্তরণকে বলা হয় কিউটিকল। সাধারণত কিউটিকল ভেদ করে বাষ্প বের হয় না। কিউটিকল যদি পাতলা হয় এবং কোনো কারণে পত্ররন্ধ্র যদি বন্ধ থাকে তখন সামান্য পরিমাণ প্রস্বেদন কিউটিকলের আস্তরণ ভেদ করে কিউটিকুলার প্রস্বেদন ঘটে।

প্রশ্ন ৯। উদ্ভিদের জন্য প্রস্বেদন প্রয়োজন কেন?

উত্তর: প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ হতে পানিকে বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়। প্রস্বেদনের ফলে কোষে রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্তঃঅভিস্রবণে সহায়ক হয়ে উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে। প্রস্বেদন উদ্ভিদ দেহকে ঠান্ডা রাখে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে। উক্ত কারণে প্রস্বেদন উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজন।

প্রশ্ন ১০। প্রস্বেদনকে Necessary evil বলা হয় কেন?

উত্তর: প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় যদি উদ্ভিদের দেহ হতে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায় তবে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। তাই আপাত দৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। কিন্তু প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়। এজন্য প্রস্বেদনকে উদ্ভিদের জন্য একটি Necessary evil (প্রয়োজনীয় ক্ষতি) বলা হয়।

১১। পলিথিনকে কেন অভেদ্য পর্দা বলা হয়?

উত্তর: যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রব উভয় প্রকার পদার্থের অণুগুলো চলাচল করতে পারে না, তাকে অভেদ্য পর্দা বলে। পলিথিনের মধ্য দিয়ে দ্রাবক ও দ্রব পদার্থের কোনো অণুই চলাচল করতে পারে না। এজন্য পলিথিনকে অভেদ্য পর্দা বলা হয়।

প্রশ্ন ১২। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য পানি ও খনিজ লবণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য পানি ও খনিজ লবণ গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদের কোষের শতকরা ৮০-৯০ ভাগ পানি। পানি ছাড়া কোষ সচল থাকতে পারে না। এছাড়া বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া সচল রাখার জন্য পানি ও খনিজ লবণের কারণেই কোষ দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বাড়ে ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সম্পন্ন হয়।


Comments

Popular posts from this blog

৮ম শ্রেণী বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ

বিএড ২০২২ ব্যাচের একীভূত শিক্ষা (EDBN-2402) নির্ধারিত কাজ ১

বিএড ২০২২ ব্যাচের শিখন ও শিখন যাচাই (EDBN-2401) নির্ধারিত কাজ ১